জাতীয়

নির্বাচন থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াই, ৬০ লাখ সদস্যের সাহসই আগামী দিনের পাথেয়

ঢাকা, ১৯ মে – দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে দেশ যখন গণতন্ত্রের এক নতুন সূর্যোদয় প্রত্যক্ষ করছে, ঠিক তখনই সামনে এলো এক বড় উৎসবের খবর। আগামীকাল বুধবার (২০ মে) উদযাপিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬।

এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) এক বিশেষ বাণীতে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই বাহিনীর অসামান্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক মাইলফলক। তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য আমি এই বাহিনীর সর্বস্তরের প্রতিটি সদস্যকে আবারও অভিনন্দন জানাই।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক উক্তিটি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার গণপ্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই এই বাহিনী গড়ে উঠেছে। আজ দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাহিনীর নেটওয়ার্ক সরকারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর বাংলাদেশ আজ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে। আর একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রাপথে আনসার ও ভিডিপির গুরুত্ব অপরিসীম।

সাধারণ মানুষের ধারণা থাকে আনসার বাহিনী শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে এই বাহিনীর বহুমুখী কর্মক্ষমতার একটি চমৎকার বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন:

অর্থনীতির চাকা সচল রাখা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-কারখানা, হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

পরিবেশ ও কৃষি খাতের উন্নয়ন: বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষি অর্থনীতির বিকাশে খাল খনন ও পানিসম্পদ পরিকল্পনার মতো কাজেও এই বাহিনীর বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো সম্ভব।

দুর্যোগ মোকাবিলা ও যুব উন্নয়ন: বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনে আনসার বাহিনী অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া যুবসমাজকে নিছক জনশক্তি নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এই বাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এই বাহিনীর ৬৭০ জন বীর শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে তিনি গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আনসার-ভিডিপির গর্বিত সদস্যদের হাত ধরেই বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম আগামী দিনে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে।

বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে এই বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের সাহস ও নিষ্ঠাই হবে আগামী দিনের পাথেয়।

এনএন/ ১৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language