গাজায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে বিয়ের স্বপ্ন

গাজা, ১৯ মে – চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দালানকোঠার মাঝেও বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন দেখছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষ। দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে একটি ভাঙাচোরা দোকানের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সাদা রঙের একটি বিয়ের পোশাক, যা নির্মম বাস্তবতার মাঝেও এক চিলতে আনন্দের বার্তা দিচ্ছে।
দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই সেখানে আয়োজন করা হচ্ছে গণবিয়ের। আর এই উৎসবে কনেদের সাজিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হচ্ছে পুরোনো ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য পোশাক। দক্ষিণ গাজার একটি সেলাই কারখানায় পুরোনো কাপড়ের স্তূপ থেকে বিয়ের গাউন মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নিসরিন আল-রান্তিসি।
আকাশছোঁয়া দাম আর উপকরণের সংকটে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তিনি পুরোনো পোশাকগুলোকে নতুন রূপ দিচ্ছেন। নিসরিন জানান, যুদ্ধের আগে যে কাপড়ের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৫০ শেকেল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ শেকেলে।
এর সাথে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক সময় সাইকেলের প্যাডেল দিয়ে জেনারেটর চালিয়ে সেলাই মেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে তাকে। আমদানিতে বাধা ও উচ্চ জাহাজ ভাড়ার কারণে নতুন পোশাক সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বিয়ের অপেক্ষায় থাকা ২১ বছর বয়সী শাহেদ ফায়েজ জানান,
বাজারে একটি সাধারণ বিয়ের পোশাকের ভাড়াই এখন এক হাজার ডলারের বেশি। অথচ তার বিয়ের পুরো বাজেটের পরিমাণ দুইশো ডলারের কম।
এই পরিস্থিতিতে নিসরিনের মতো কারিগররাই এখন গাজার তরুণীদের ভরসা হয়ে উঠেছেন। তাঁবুতে বা ভাঙা দেয়ালের পাশে প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তারা উৎসবের আয়োজন করছেন। ছেঁড়া কাপড় জোড়া দিয়ে তৈরি এসব পোশাকই গাজার কনেদের মনে নতুন জীবনের রঙিন স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছে।
এস এম/ ১৯ মে ২০২৬









