এমপিদের পড়াশোনা ও বিশেষ এলাকায় নজরদারির নির্দেশ! সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা

ঢাকা, ১৮ মে – জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্যদের (এমপি) সংসদীয় দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এক নজিরবিহীন ও কৌশলগত রোডম্যাপ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনে শপথগ্রহণের পর সরকারপ্রধানের সঙ্গে এটিই ছিল নারী এমপিদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। সভায় তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং কাজের পরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি সংসদে ও মাঠে কীভাবে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কৌশলের জবাব দিতে হবে, তার স্পষ্ট বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
আসন্ন সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে নারী এমপিদের উদ্দেশ্যে কড়া ও গঠনমূলক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংসদে শুধু বক্তব্য দেওয়ার জন্য বক্তব্য দিলে চলবে না। প্রতিটি বক্তব্য হতে হবে শতভাগ তথ্য ও যুক্তিনির্ভর। এজন্য তিনি নারী এমপিদের নিয়মিত পড়াশোনা করা এবং সংসদীয় কার্যাবলি গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংসদে নারী এমপিরা যাতে আরও ধারালো ও আকর্ষণীয় ভূমিকা রাখতে পারেন, সেজন্য আগামী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের বিশেষ রাজনৈতিক ও সংসদীয় প্রশিক্ষণ দেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের কোনো নির্দিষ্ট একক নির্বাচনী এলাকা না থাকায় তারা মাঠে কীভাবে কাজ করবেন—তা নিয়ে এক অভিনব ও রাজনৈতিক চাল চাললেন প্রধানমন্ত্রী।
সাধারণত সরকারি দলের নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল জোট শরিক ও বিরোধী দলগুলোর আসন নিয়ে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দেশের যেসব আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য (এমপি) রয়েছেন, সেসব এলাকায় সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নারী সংসদ-সদস্যরা নির্বাচিত পূর্ণ এমপির মতোই সরাসরি উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক কাজে সম্পৃক্ত হবেন এবং তদারকি করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম কৌশলগত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য সেলিমা রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “মূলত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটি আমাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ধন্যবাদ জানানোর বৈঠক ছিল। যেহেতু আমাদের নির্দিষ্ট কোনো এলাকা থাকে না, তাই কোন এলাকায় কীভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। একজন রাজনৈতিক নেত্রী ও সংসদ-সদস্য হিসেবে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশ ও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের কেবল ‘প্রতীকী’ পদ থেকে বের করে মাঠপর্যায়ের উন্নয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত করার এবং সংসদে তাদের মেধার বিকাশ ঘটানোর এই উদ্যোগ ক্ষমতাসীন দলের এক দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
এনএন/ ১৮ মে ২০২৬









