ইরান যুদ্ধের মাঝেই সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠাল পাকিস্তান!

ইসলামাবাদ, ১৮ মে – যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে যখন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে সৌদি আরবের সুরক্ষায় এক নজিরবিহীন ও বিশাল সামরিক বহর মোতায়েন করেছে ইসলামাবাদ। একটি গোপন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে।
তিনজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দুজন নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো এই মেগা সামরিক মোতায়েনের পুর্ণাঙ্গ তথ্য ও মাত্রা ফাঁস করেছে।
সূত্রগুলো এই বহরকে একটি ‘উল্লেখযোগ্য এবং যুদ্ধ-ক্ষমতাসম্পন্ন পরাশক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ভবিষ্যতে সৌদির ওপর যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে। তবে সংবেদনশীল এই ইস্যু নিয়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী (আইএসপিআর), পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা রিয়াদের সরকারি মিডিয়া অফিস—কেউই মুখ খোলেনি।
গত বছর রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর পূর্ণ শর্তাবলি কঠোর গোপনীয়তায় ঢাকা ছিল। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব কার্যত পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতা’র (Nuclear Umbrella) সুরক্ষায় চলে এসেছে।
চুক্তির টেক্সট বা খসড়া দেখেছেন এমন একটি সরকারি সূত্র অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এক তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, চুক্তিতে এমন বিশেষ ধারা রয়েছে যে, জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে ৮০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা যাবে, যারা সৌদি বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় সরাসরি যুদ্ধ করবে। এছাড়া এই চুক্তির অধীনে সৌদির জলসীমায় পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পথও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, এটি কোনো প্রতীকী বা সীমিত মিশন নয়; বরং রিয়াদের সুরক্ষায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিধ্বংসী সামরিক সক্ষমতার উপস্থিতি। এর সব খরচ বহন করছে সৌদি আরব আর পরিচালনায় থাকছে খোদ পাকিস্তানি সেনারা।
চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি পাকিস্তানের গর্ব ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ (JF-17 Thunder) ফাইটার জেটের একটি পূর্ণ স্কোয়াড্রন (১৬টি বিমান) গত এপ্রিলের শুরুতেই সৌদিতে উড়ে গেছে। সঙ্গে পাঠানো হয়েছে দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রন।
এছাড়া সৌদি আরবে আগে থেকে অবস্থানরত হাজারো পাকিস্তানি সেনার অতিরিক্ত হিসেবে এই নতুন ৮ হাজার ‘কমব্যাট রেডি’ সেনা যোগ দিয়েছে। সংঘাতকালীন এই নতুন সদস্যদের আপাতত উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণমূলক ছদ্মবেশে রাখা হয়েছে।
আকাশসীমা সম্পূর্ণ নিভেদ্য করতে চীনের তৈরি দূরপাল্লার শক্তিশালী ‘এইচকিউ-৯’ (HQ-9) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সৌদিতে বসিয়েছে পাকিস্তান।
এই বিশাল সামরিক মোবিলাইজেশনের পেছনে রয়েছে একটি বড় কারণ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে, যাতে এক সৌদি নাগরিক নিহত হন। এর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি আরবও ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। মূলত এরপরই রিয়াদকে আকাশ ও স্থলপথে শতভাগ নিরাপত্তা দিতে ইসলামাবাদ দ্রুত এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমান বহর পাঠায়।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, একদিকে সৌদি আরবে বিপুল সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রিয়াদকে সুরক্ষিত রাখছে পাকিস্তান, অন্যদিকে তারাই আবার ইরান যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত ৬ সপ্তাহ ধরে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তার একমাত্র সফল ‘শান্তি বৈঠক’টি কিন্তু আয়োজন করেছিল এই পাকিস্তানই। সামরিক শক্তি ও সফল কূটনীতির এই চাল মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
এনএন/ ১৮ মে ২০২৬









