শেয়ার বাজারে ২৫৬ কোটির কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ করল দুদক

ঢাকা, ১৮ মে – মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এখন বিনোদন, রাজনীতি এবং দেশের অপরাধ খবরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। পুঁজিবাজারে ২৫৬ কোটি টাকার চাঞ্চল্যকর শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগে তদন্তের অংশ হিসেবে সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবন থেকে সম্প্রতি এই কারসাজি সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র নথিবদ্ধ করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা। গত বছরের জুনে দায়ের করা দুদকের এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে সাকিব ও তাঁর সহযোগীরা ২৫৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যার মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে সরাসরি ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের মামলার বিবরণী অনুযায়ী, শেয়ার বাজারের আলোচিত ও বিতর্কিত কারসাজিকারী আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে পা রেখেছিলেন সাকিব। মূলত তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিলেন এই অলরাউন্ডার:
১. প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড
২. ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড
৩. সোনালী পেপারস লিমিটেড
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের পর সাকিব নিজেই ‘মার্কেট ম্যানিপুলেশন’ বা বাজার কারসাজিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করেন। এছাড়া সাকিবের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের আরেকটি পৃথক অভিযোগেও নথিপত্র সংগ্রহ করছে দুদক।
এদিকে একের পর এক মামলা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং ওয়ান্টেড তালিকার গুঞ্জনের মাঝেই মুখ খুলেছেন সাকিব আল হাসান। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে উল্টো শেয়ার মার্কেটের দুর্নীতির শ্বেতপত্র ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ক্ষুব্ধ সাকিব বলেন, “মাঝেমধ্যে নিউজে আসে যে অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু কেউ বিস্তারিত বলতে পারে না। কেউ বলল যে, ‘শেয়ার মার্কেটের কারসাজি আছে।’ তো সেটা কি? দুই বছর ধরে কেউ কিছু প্রমাণ করতে পেরেছে? রাজনৈতিক একটা হত্যা মামলা আছে, সেটাও তো দেড় বছরে কিছু এগোয়নি!”
নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকা এবং চেক বাউন্সের মামলা নিয়ে সাকিব অত্যন্ত বাস্তবসম্মত যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটা চেক বাউন্সের মামলা আছে, সেটা একদম বেসিক জিনিস। যদি আপনি ইনস্টলমেন্ট (কিস্তি) না দিতে পারেন, সাইন করা যে চেকগুলো ব্যাংকে থাকে, ওটা নিয়ে ব্যাংক মামলা করে। সেটা খুবই নরম্যাল ব্যাপার এবং এটা রিশিডিউলও করা যায়, টাকা দিলে সেই মামলা বন্ধ হয়ে যায়। আমি যে টাকাটা দেব, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টই তো ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে!”
তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার বলেন, তদন্তের স্বার্থে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, কিন্তু দেড় বছর পার হয়ে গেলেও তদন্তকারীরা কিছুই পাননি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, অন্যায় কিছু না করায় পাওয়ার কোনো সুযোগও নেই।
দুদক ও প্রশাসনের প্রতি সাকিবের স্পষ্ট বার্তা—”লোকের কথা শুনলে মনে হয় আমার কয়েক হাজার সমস্যা এবং সমাধান করতে কয়েক দশক লেগে যাবে। আসলে ইচ্ছে থাকলে কতদিন লাগতে পারে? দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষ প্রমাণিত হলে অ্যাকশন নিন, আর কিছু না পেলে ক্লিয়ারেন্স দিন, আমাকে রিলিজ দিন। আমার অ্যাকাউন্ট ওপেন হয়ে গেলে রিশিডিউল করে আমি কালকেই টাকা জমা দিয়ে দেব, পরশুদিন ওরা মামলা তুলে নেবে!”
এনএন/ ১৮ মে ২০২৬









