যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে বৈঠক করলেন সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস

ঢাকা, ১৬ মে – চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য সফরে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস। শনিবার (১৬ মে) সকালে লন্ডনের বিখ্যাত ‘হোটেল হিলটন’-এর লবিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) যুক্তরাজ্যের রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির হার্টে একটি ব্লক ধরা পড়ার পর জরুরি ভিত্তিতে এনজিওপ্লাস্টি করে ‘রিং’ (স্টেন্ট) বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে হোটেলে বিশ্রামে থাকা অবস্থায় সুদানের প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব মো. দিদারুল আলমের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত পূর্ণ আরোগ্য কামনা করেন।
কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি সুদানের প্রধানমন্ত্রী সে দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর (UN Peacekeepers) বীরত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটময় দিনগুলোতে অত্যন্ত ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে সংকট উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সাধুবাদ জানান।
সুদানের প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা ও শুভকামনার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি সুদান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে সুদানের সাধারণ জনগণের শান্তি, কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আগামীতে বাংলাদেশ ও সুদানের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেশি সুদৃঢ় হবে।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে রাষ্ট্রপতির একটি সফল ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’ হয়েছিল। এরপর থেকেই নিয়মিত ফলোআপের জন্য তাঁর কেমব্রিজের রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ২৬ মাস তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারেননি।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ৯ মে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এরপর গত মঙ্গলবার দুপুরে রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে তাঁর এনজিওগ্রাম করা হলে হৃদযন্ত্রে একটি মেজর ব্লক ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে সেখানে একটি স্টেন্ট বা রিং বসিয়ে দেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে আগামী সোমবার (১৮ মে) রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
এনএন/ ১৬ মে ২০২৬









