উত্তর আমেরিকা

শি জিনপিংয়ের মুখোমুখি ট্রাম্প: অস্ত্র সংকটে চাপে মার্কিন কূটনীতি

ওয়াশিংটন, ১৩ মে – আসন্ন বেইজিং সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি সংকটজনক চিত্র সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান পড়েছে। এর ফলে বেইজিংয়ের সাথে আলোচনায় ওয়াশিংটনের দর কষাকষির সক্ষমতা আগের চেয়ে কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব চীনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। এই ঐতিহাসিক সফরে ট্রাম্পের সাথে রয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম কোনো পেন্টাগন প্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বেইজিং সফরে গেলেন। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার আড়ালে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুদ।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানে আমেরিকা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ক্রুজ মিসাইলের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এর প্রভাব পড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকা তাদের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের এক-তৃতীয়াংশ এবং প্যাট্রিয়ট ও থাড এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করেছে।

বর্তমান মজুদে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও চীনের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পেন্টাগনের এই শূন্যতা পূরণ করতে অন্তত চার বছর সময় লাগতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার তৈরিতে প্রয়োজনীয় গ্যালিয়াম, অ্যান্টিমনি এবং রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের সরবরাহের ওপর চীনের একক আধিপত্য রয়েছে।

বিশ্ববাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ খনিজ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে বেইজিং। ফলে নিজের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে আমেরিকাকে পরোক্ষভাবে চীনের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,

  • খনিজ সম্পদের এই সরবরাহকে চীন আলোচনার টেবিলে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
  • যদি চীন এই রফতানি বন্ধ করে দেয় তবে আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্প চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
  • তাইওয়ান প্রণালি এবং দক্ষিণ চীন সাগরের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতেও এই অস্ত্র সংকটের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে।
  • আমেরিকার মনোযোগ এবং অস্ত্র এখন মধ্যপ্রাচ্যে নিবদ্ধ থাকায় এশিয়ায় ওয়াশিংটনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। এটি আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারে চীনকে আরও সাহসী করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন।

এস এম/ ১৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language