বগুড়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৭ লাখ পশু, গো খাদ্যের দামে শঙ্কিত খামারিরা

বগুড়া, ১৩ মে – পবিত্র ঈদুল আযহার বাকি মাত্র দুই সপ্তাহ। আসন্ন এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বগুড়া জেলায় খামার ও কৃষকের বাড়িতে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলার ৫ হাজার ২০০টি খামারে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি। মূলত পশুর চাহিদা হ্রাসের কারণে এই সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামারিরা জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাইয়ে পশুদের মোটাতাজা করেছেন। অনেক খামারি ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে সরাসরি গন্তব্যে পশু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
তবে গো খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে পশু বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ভুষি, ধানের কুড়া, খৈল ও খড়ের দাম বাড়ায় পশু পালনের ব্যয় আগের চেয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বগুড়ার বিভিন্ন হাটে এরই মধ্যে কোরবানির পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
ক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম এবার কিছুটা চড়া হলেও বাজারে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। এদিকে পশুহাটে কোনো ধরনের রোগাক্রান্ত পশু যেন বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিতে মেডিকেল টিম গঠন করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বগুড়া সদরের এ্যাগ্রো ভেঞ্চার খামারের ব্যবস্থাপক এহসানুল হক জানান, তাদের খামারে ৪৪টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
গো খাদ্যের দাম বাড়ার প্রভাবে পশুর বাজার এবার কিছুটা চড়া হতে পারে। তবে গুণগত মান ও আকারের দিক থেকে দেশি প্রজাতির গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রায়হান জানান, নিরাপদ কোরবানি নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত খামারগুলো তদারকি করছেন এবং বাজারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছেন।
এস এম/ ১৩ মে ২০২৬









