হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ! ঈদে নারী যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

ঢাকা , ১২ মে – আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে ট্রেনের সিট পাওয়া যেন এক সোনার হরিণ। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য এই সফর হয়ে ওঠে চরম ভোগান্তির। তবে এবার সেই দৃশ্যপট বদলে যেতে পারে। ১৮৯০ সালের ব্রিটিশ আমলের এক আইনকে ঢাল বানিয়ে দেশের উচ্চ আদালত আজ এক ঐতিহাসিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক জনগুরুত্বপূর্ণ আদেশে জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কামরা বা বগি বরাদ্দ রাখতে হবে।
আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন আদালতে এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। এই আদেশের ফলে এবারের ঈদ যাত্রায় নারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অনেকেই হয়তো জানেন না যে, আমাদের দেশে ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইন আজও কার্যকর। এই আইনের ৬৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ থাকা বাধ্যতামূলক। যদি ট্রেনটি ৫০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেয়, তবে ওই কামরার সাথে অবশ্যই একটি শৌচাগার (Toilet) থাকতে হবে।
প্রশ্ন উঠছে, তবে এতদিন কেন এটি কার্যকর হয়নি?
বাস্তবতা হলো, বছরের পর বছর ধরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই আইনের তোয়াক্কা করেনি। ২০২১ সালে আইনজীবী মমতাজ পারভীন এই অবহেলার বিরুদ্ধে একটি রিট আবেদন করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতেই আজ এই বিশেষ নির্দেশনা এলো।
আইনের শুধু অধিকারের কথা বলা নেই, আছে শাস্তির বিধানও। রেলওয়ে আইনের ১১৯ ধারা অনুযায়ী, নারীদের জন্য সংরক্ষিত সেই কামরায় যদি কোনো পুরুষ যাত্রী বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করেন, তবে তাকে জরিমানার মুখে পড়তে হবে। হাইকোর্টের আজকের এই আদেশের ফলে এই দণ্ডবিধিগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করার পথ প্রশস্ত হলো।
“আইনে আলাদা কামরার কথা থাকলেও তা বাস্তবে ছিল না। ঈদে নারীদের কষ্ট লাঘবে আমরা সম্পূরক আবেদন জানিয়েছিলাম এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।” — আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।
আদেশ তো এলো, কিন্তু বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? ঈদের সময় ট্রেনের বগি সংকট একটি চিরচেনা সমস্যা। প্রতিটি ট্রেনে একটি করে বাড়তি বা নির্দিষ্ট বগি নারীদের জন্য আলাদা করে রাখা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। তবে আদালতের এই কঠোর অবস্থান রেলওয়েকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবরটি আসার পরপরই ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে। নারী অধিকার কর্মীরা একে “দেরিতে হলেও সঠিক পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে অনেক যাত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ কামরায় উপচে পড়া ভিড় সামাল দিয়ে কীভাবে একটি নির্দিষ্ট বগি শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে?
আপনার কী মনে হয়? আদালতের এই নির্দেশ কি রেলওয়ে সঠিকভাবে পালন করতে পারবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান এবং এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি শেয়ার করে অন্যদের জানিয়ে দিন।
এনএন/ ১২ মে ২০২৬









