কেরানীগঞ্জে কোরবানির পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

কেরানীগঞ্জ, ১০ মে – আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জের খামারিদের মধ্যে ব্যাপক ব্যস্ততা বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন ছোট ও বড় খামারে গরু মোটাতাজাকরণ ও বিশেষ পরিচর্যায় দিনরাত শ্রম দিচ্ছেন শ্রমিক ও মালিকেরা। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে খামারিরা জানিয়েছেন। তবে গো খাদ্যের উচ্চমূল্য উৎপাদন খরচ অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
খামারিদের প্রত্যাশা বাজারদর অনুকূলে থাকলে তারা ভালো মুনাফা করতে পারবেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে এ বছর কেরানীগঞ্জে প্রায় ১৪ হাজার ২৬৬টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭১৮টি ষাঁড় এবং ২৩৭টি বলদ ও ৭১২টি গাভীসহ মোট ১২ হাজার ৬৬৭টি গরু রয়েছে। এ ছাড়া কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য ১৪৭টি মহিষ এবং ১ হাজার ১০৫টি ছাগল ও ২৯৫টি ভেড়াসহ অন্যান্য পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে শ্রমিকেরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুর খাবার তৈরি ও পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ঘাস ও খড় এবং ভুসি ও খৈলসহ দেশীয় খাবার দিয়ে পশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। খামার শ্রমিকরা জানান পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং খাবারে কোনো ক্ষতিকর হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে না।
স্থানীয় আবরাজ ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মেহের আলী জানান দেশীয় গরু প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করায় এগুলোর চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে। তবে বাজারে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঘটলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তাদের মনে শঙ্কা রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বেগ এ বিষয়ে বলেন খামারিরা যাতে স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহার না করেন সেটি নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম নিয়মিত তদারকি করছে। নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে পশুদের নিরাপদ ও দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এস এম/ ১০ মে ২০২৬









