মধ্যপ্রাচ্য

গাজা ইস্যুতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর যৌথ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: ফের যুদ্ধের আশঙ্কা

জেরুজালেম, ৪ মে – গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং স্থায়ী শান্তি ফেরাতে হামাসসহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর দেওয়া একটি ‘যৌথ প্রস্তাব’ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন ‘রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের শর্ত দিয়ে নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা মানতে রাজি হয়নি তেল আবিব ও ওয়াশিংটন। এই প্রত্যাখ্যানের ফলে গাজায় আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একটি জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি সূত্র মিডল ইস্ট আই-কে জানায়, কায়রো ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনার ভিত্তিতে হামাস একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছিল। যার মূল পয়েন্টগুলো ছিল: শর্তযুক্ত নিরস্ত্রীকরণ, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের ভারী অস্ত্র (ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট লঞ্চার) এবং টানেল নেটওয়ার্কের মানচিত্র ৯০ দিনের মধ্যে হস্তান্তর করবে। তবে এর বিপরীতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এছাড়া টেকনোক্র্যাট সরকার: গাজার শাসনভার একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর এবং পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রবেশ। সেনা প্রত্যাহার: নির্ধারিত সীমারেখা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, গাজায় কোনো টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের আগেই হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। তারা এই নিরস্ত্রীকরণকে যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ‘পূর্বশর্ত’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর স্পষ্ট কথা—রাজনৈতিক সমাধান (রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা) ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব নয়। মার্কিন পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি আলোচক দলকে ‘হুমকিমূলক’ বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গাজায় সামরিক অভিযান পুনরায় পুরোদমে শুরু করার বিষয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা জরুরি বৈঠকে বসতে পারে। বিশেষ করে গাজার পূর্বাঞ্চলে সম্প্রসারণ এবং পশ্চিমাঞ্চলে হামলার বিষয়ে ইসরায়েল অনড় অবস্থানে রয়েছে।

হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানিয়েছেন, খালিল আল-হাইয়া-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কায়রোতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ৬ ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ১৯ এপ্রিল দেওয়া রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা এখন হিমাগারে যাওয়ার পথে।

গাজায় মানবিক সহায়তার নির্ধারিত পরিমাণ নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিগুলো উপেক্ষিত হওয়ায় সেখানে নতুন করে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক সমাধান বনাম নিরস্ত্রীকরণ—এই দ্বন্দ্বে আটকে গেছে শান্তির পথ।

এনএন/ ৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language