দেশে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ২৪

ঢাকা, ০২ মে – দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত চার শিশুই রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
শনিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৭২ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৪৯ শিশু, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই নির্দেশ করছে।
সংক্রমণের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩৯ হাজার ৩২৫ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ২৬ হাজার ৯১১ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। যদিও ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ২৩ হাজার ২২৫ শিশু হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে, একই সময়ে দেশে মোট ৫ হাজার ২১৮ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর অন্যতম কারণ টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা। ইতোমধ্যে সরকার টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, শুধু টিকাদান নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
সবমিলিয়ে, দেশে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এখন সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ বাড়ছে, যাতে করে শিশুদের জীবন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
এনএন/ ০২ মে ২০২৬









