ভারতে কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর হিড়িক, জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি এফএসএসএআই-এর

নয়াদিল্লী, ২৭ এপ্রিল – ভারতে কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও মানক কর্তৃপক্ষ বা এফএসএসএআই। আম এবং কলার মতো জনপ্রিয় ফলগুলো দ্রুত বাজারজাত করতে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিষাক্ত রাসায়নিকের আশ্রয় নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এফএসএসএআই জানিয়েছে যে নিয়মনীতি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের সকল খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনার এবং আঞ্চলিক পরিচালকদের বাজার ও হিমাগারগুলোতে নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে যে অনেক ক্ষেত্রে ইথেফোন নামক রাসায়নিক দ্রবণে সরাসরি ফল ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনোভাবেই ফলের সঙ্গে রাসায়নিকের সরাসরি সংস্পর্শ গ্রহণযোগ্য নয়।
ফল পাকানোর গুদামগুলোতে বিষাক্ত অ্যাসিটিলিন গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করার জন্য কর্মকর্তাদের বিশেষ ধরণের স্ট্রিপ পেপার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই আর্দ্র স্ট্রিপটি সন্দেহভাজন ফল থেকে নির্গত গ্যাস পরীক্ষা করে কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে। মূলত ফল পাকানোর কাজে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর প্রভাবে শ্বাসকষ্ট এবং খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীতে আলসার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে হায়দ্রাবাদে আম পাকাতে নিষিদ্ধ ইথিলিন রাইপার ব্যবহারের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া দিল্লি এবং হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলোতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল ভোজ্য তেল ও নকল ওষুধ জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। সাধারণ ক্রেতাদের ফলের অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বা রঙের বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং কৃত্রিম প্রলেপ দেওয়া ফল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এফএসএসএআই।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬









