জাতীয়

শ্যামলীতে চিকিৎসকের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ, রাতেই হাসপাতালে যুবদল নেতারা

ঢাকা, ১১ এপ্রিল – ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে যুবদল নেতার পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর গভীর রাতে সেখানে গিয়ে কথা বলেছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ওই হাসপাতালে যান। তারা আলোচিত কিডনি চিকিৎসক অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে তাকে আশ্বস্ত করেন। স্বল্প খরচে কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনের জন্য অধ্যাপক কামরুলের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে একটি খবর প্রচারিত হয় যে, তার হাসপাতালে যুবদল পরিচয়ে স্থানীয় মঈন নামের এক ব্যক্তি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এই খবর পেয়েই যুবদল নেতারা দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, গত ৫ অগাস্টের পর শ্যামলীর বাসিন্দা মঈন হাসপাতালে খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি কাজ নেন। কিন্তু তিনি বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দাম নিচ্ছিলেন। চাল এবং ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম রাখায় সম্প্রতি তাকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই ব্যক্তি লোকজন নিয়ে এসে হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন এবং চাঁদা দাবি করেন। মঈন নিজেকে যুবদল নেতা এবং আগামীতে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন নিশ্চিত করেন যে মঈন তাদের সংগঠনের কেউ নন। তিনি জানান, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

এরপর সাধারণ সম্পাদক তার ফোন থেকে র‌্যাবের এক কর্মকর্তাকে কল করে মঈন নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানান এবং স্পিকারে রেখে চিকিৎসককেও কথা বলার সুযোগ দেন।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের আরও জানান, তিনি রোগীদের কাছ থেকে খাবারের জন্য বাড়তি কোনো টাকা নেন না। সম্পূর্ণ মানবিক দিক বিবেচনা করে গ্রাম থেকে আসা রোগীদের কম খরচে খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু মঈন অতিরিক্ত বিল করতে থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই ব্যক্তি হাসপাতালের একজন পুরনো কর্মীকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এমনকি তার বাসায় গিয়েও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

এ বিষয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন এই চিকিৎসক।

এনএন/ ১১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language