উত্তর আমেরিকা

ইরানের বিরুদ্ধে টহল দিতে চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ২৭ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে টহল জোরদার করতে চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন কোনো সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ ধরনের অত্যাধুনিক নৌযান ব্যবহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল। এর আগে এই ধরনের নৌযান মোতায়েনের কোনো খবর প্রকাশ্যে আসেনি। এই ড্রোন বোটগুলো মূলত নজরদারি করার কাজে ব্যবহৃত হলেও প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলার কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।

ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট ব্যবহার করে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ব্যাপক ক্ষতি করার পর থেকে চালকবিহীন এই নৌযানগুলো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে। প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানও অন্তত দুইবার পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার উদ্দেশ্যে সি ড্রোন বা সমুদ্র ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এসব চালকবিহীন নৌযান ব্যবহার করে কোনো আক্রমণাত্মক হামলা চালিয়েছে কি না তার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন যে মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক সির তৈরি এসব চালকবিহীন নৌযান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন এপিক ফিউরি এর অংশ হিসেবে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এই বিশেষ নৌযানগুলো গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট বা জিএআরসি নামে সমাধিক পরিচিত। এক বিবৃতিতে হকিন্স আরও জানান মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে জিএআরসির মতো আধুনিক ড্রোন নৌযান ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।

এই বিশেষ প্ল্যাটফর্মটি অপারেশন এপিক ফিউরির সমর্থনে টহল দেওয়ার সময় সফলভাবে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় পানিতে ভেসে থেকে দুই হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বর্তমানে মোতায়েন থাকা অন্য কোনো ড্রোন ব্যবস্থার নাম বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি সেন্টকমের এই মুখপাত্র। এছাড়া নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক সি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এস এম/ ২৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language