হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজে বাধা দেবে না ইরান

তেহরান, ২৬ মার্চ – হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না বলে নিশ্চিত করেছে ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট কিছু বন্ধুরাষ্ট্র এবং বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত দেশের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ উন্মুক্ত থাকবে। ইরানের এই বন্ধুরাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইরাক। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালালে এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে যে দাবি করছে তা সঠিক নয়। তিনি বলেন, বহু দেশের শিপিং কোম্পানি নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যেসব দেশকে তারা বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করেন বা অন্য কোনো কারণে অনুমতি দিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেসব দেশের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।
আরাগচি আরও জানান, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত এই তালিকায় রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। বাংলাদেশও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আরাগচি বলেন, তারা বর্তমানে যুদ্ধাবস্থায় আছেন এবং এই অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ইরান বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে এই পথে দৈনিক প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে এই সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
এস এম/ ২৬ মার্চ ২০২৬








