কেরানীগঞ্জে কিশোর ‘হত্যা’ মামলা ভুয়া প্রমাণিত, শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি

ঢাকা, ২০ মার্চ – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জে জিহাদ নামের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া এবং কথিত ভুক্তভোগী জীবিত থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক বদিয়ার রহমানের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত এই আদেশ দেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিআরও আবদুল নূর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত বছরের ১১ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আদালত মামলাটির পর্যালোচনা শেষে সকল আসামিকে অব্যাহতির আদেশ দেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই অব্যাহতি আদেশে স্বাক্ষর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহার এবং চার্জশিটে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে যে ভুক্তভোগী জিহাদ জীবিত আছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল নিয়েও মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল। জিহাদ মূলত হাজারীবাগ এলাকায় জখম হয়েছিলেন, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটিকে কেরানীগঞ্জে সংঘটিত হত্যা হিসেবে সাজানো হয়। এই ধরনের তথ্যগত ভুল এবং ভুক্তভোগীর নিজের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
এই মামলায় অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভুক্তভোগী জীবিত থাকায় এবং তার জখম হওয়ার সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সকল আসামিকে দায়মুক্ত করা হলো।
এ এম/ ২০ মার্চ ২০২৬









