মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যাপক প্রাণহানি

ওয়াশিংটন, ১৯ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতৃত্বে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই ধারাবাহিক হামলায় ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বেশ কয়েকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। চলমান এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলেনি, পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনেও গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তিনি নিহত হন। তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে দেশটির ক্ষমতায় আসীন ছিলেন। তাঁর এই মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

একই দিন তেহরানে হামলায় নিহত হন খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া তেহরানে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অবস্থানকালে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভিও প্রাণ হারান। পরবর্তীতে ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় হওয়া হামলায় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অন্যতম নেতা আলী লারিজানি তার এক ছেলে ও সহযোগীসহ নিহত হন।

একই দিনে বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন। এরপর ১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ও কঠোরপন্থী ধর্মীয় নেতা ইসমাইল খতিব। এসব ধারাবাহিক হামলায় ইরানের ক্ষমতার শীর্ষ স্তর চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর প্রভাব কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন বয়ে আনবে।

এস এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language