নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: বাংলাবান্ধার যাত্রা বাতিল, উদ্ধারে লাগবে আরও সময়

ঢাকা, ১৯ মার্চ – সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় রাজশাহী ও পঞ্চগড় রুটের বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের যাত্রা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর ১৯ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত সব কটি বগি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই দুর্ঘটনার জেরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ট্রেন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল আউয়াল বৃহস্পতিবার সকালে জানান, সান্তাহার জংশন পার হওয়ার পর বাগবাড়ি এলাকায় লাইনচ্যুত হওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগির মধ্যে ৪টি পুরোপুরি উদ্ধার করে রেললাইনের ওপর আনা হয়েছে।
এগুলো দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। বাকি ৫টি বগি উদ্ধার করে রেললাইনের পাশে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সব কটি বগি উদ্ধার করতে অন্তত আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু হবে। দুর্ঘটনার কারণে রাজশাহী থেকে রাত ৯টায় এবং পঞ্চগড় থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে যাওয়া বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য ট্রেন বিকল্প হিসেবে বগুড়া হয়ে নিজেদের গন্তব্যে চলাচল করছে। রেল যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে রেলওয়ের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এর আগে বুধবার দুপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে আদমদিঘী ও নওগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম জানান, ট্রেন লাইনচ্যুতির পেছনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা তথ্যগত ঘাটতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে এই কমিটি কাজ করছে। কমিটিতে মেকানিক্যাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার, সিগন্যাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং ট্রান্সপোর্টেশন চিফকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে যাচাই করে দেখছেন।
এস এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬









