গাজীপুর

পোশাক কারখানায় ছুটি, চন্দ্রা থেকে মৌচাক পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট

ঢাকা, ১৮ মার্চ – ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের চাপে ঢাকা ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হওয়ায় যাত্রীদের এই চাপ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মহাসড়কের চন্দ্রা অংশে। ফলে যানজটে আটকে উত্তরাঞ্চলমুখী সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বুধবার ভোর চারটার দিকে মহাসড়কের প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘসারি দেখা যায়। বিকল্প কোনও সড়ক না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে অনেক গাড়ি আটকে থাকে। তবে কিছু স্থানে পুলিশের তৎপরতায় যানবাহন থেমে থেমে চলতে দেখা যায়।

জানা যায় মঙ্গলবার থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি দেওয়া শুরু হয়েছে যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধাপে ধাপে চলবে। কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দশ থেকে বারো দিনের লম্বা ছুটি দেওয়ায় তারা দলে দলে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

বুধবার ভোরে চন্দ্রা এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। চন্দ্রা মোড় থেকে গাজীপুরের মৌচাক পর্যন্ত প্রায় দশ কিলোমিটার রাস্তায় গাড়ি আটকে থাকলেও নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে কোনও জট ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও চন্দ্রা টার্মিনাল এলাকায় এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন।

শ্যামলী পরিবহনের এক চালক জানান গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে মৌচাক পর্যন্ত নির্বিঘ্নে এলেও এরপর থেকে যানজট শুরু হয় এবং এক ঘণ্টায় মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করা সম্ভব হয়।

পরিবহন শ্রমিক বাচ্চু মিয়া বলেন চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় কিছু স্থানীয় পরিবহনের বিশৃঙ্খলার কারণেই মূলত এই যানজট তৈরি হচ্ছে।

এদিকে গাজীপুর থেকে রংপুরগামী একজন যাত্রী জানান রাত আড়াইটায় বাসে উঠে দেড় ঘণ্টায় তিনি চন্দ্রা পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলম জানান দিনের বেলায় যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে বিকেলে কিছু শিল্প কারখানা ছুটি হওয়ায় রাতে যাত্রীদের ভিড় অনেক বেড়ে যায়।

ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে প্রবেশের প্রধান পথ চন্দ্রা হওয়ায় বেশিরভাগ যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করছে। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে জেলা ও মহানগর ট্রাফিক পুলিশ অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এনএন/ ১৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language