গাজীপুর

গাজীপুরের ভাওয়াল গজারি বনে আগুন: হুমকিতে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

গাজীপুর, ১৪ মার্চ – গাজীপুরের ভাওয়ালের বিস্তীর্ণ গজারি বনে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে নানা প্রজাতির সরীসৃপ, পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণী। একইসঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে নতুন চারা ও দুষ্প্রাপ্য ঔষধি উদ্ভিদ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা, অসতর্কতা এবং কখনো কখনো পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে। বর্তমানে ফাল্গুন মাস এবং শুষ্ক মৌসুম চলায় বনে আগুন লাগার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বন কর্মকর্তাদের দাবি, অনেক সময় অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে বনে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেলার প্রায় ৬৫ হাজার একর বনভূমি ভাওয়াল, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, রাজেন্দ্রপুর ও কাঁচিঘাটা রেঞ্জ অফিসের মাধ্যমে তদারকি করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বনের বিভিন্ন স্থানে শাল ও গজারি গাছের গোড়া পুড়ে গেছে এবং নতুন চারা ছাই হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বনের ভেতরে মাদকসেবীদের ফেলে দেওয়া সিগারেটের আগুন থেকে অনেক সময় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এছাড়া বনের আশপাশের জমির মালিকেরা সীমানা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাগান পরিষ্কারের অজুহাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এদিকে এক শ্রেণির অসাধু চক্র রাতের অন্ধকারে গজারি গাছ কেটে বিক্রি করছে। সম্প্রতি শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের গালদাপাড়া গ্রামে রাতের বেলা গাছ কাটার সময় গ্রামবাসী তা আটকে বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে বন কর্মকর্তারা সেগুলো জব্দ করেন। গোসিংগা ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, বাগান পরিষ্কারের নামে অনেক সময় গজারি বনে আগুন দেওয়া হয়।

শুষ্ক মৌসুমে বাতাসের তীব্রতায় ছোট আগুনও দ্রুত বনাঞ্চল ও ঝোপঝাড়ে ছড়িয়ে পড়ে। নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, বনের ভেতরে একাধিক স্থানে একসঙ্গে আগুন লাগার ঘটনা প্রমাণ করে যে এটি পরিকল্পিত। তিনি বনাঞ্চলের আশপাশের মানুষদের সচেতন করার পাশাপাশি কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ গঠনের ওপর জোর দেন। গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল জানান, গাছপালা পুড়ে গেলে কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবেশে ফিরে আসে এবং দূষণ বৃদ্ধি পায়।

এর ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। শ্রীপুর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, বনে আগুন না দেওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হয়। খবর পেলে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে টিম পাঠানো হয়। ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, মূলত বন দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। তবে আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য বনের ভেতরে ফায়ার লাইন তৈরি করা হয়েছে এবং বন বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language