সাটুরিয়ায় স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড না থাকায় চরম দুর্ভোগে আড়াই লাখ মানুষ

ঢাকা, ১১ মার্চ – স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকার পার্শ্ববর্তী সম্ভাবনাময় সাটুরিয়া উপজেলায় দূরপাল্লার বাস চলাচলের জন্য কোনো স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড এখনো গড়ে ওঠেনি। এর বদলে বিভিন্ন সড়কের ওপর অবৈধভাবে বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।
একটি স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের অভাবে এই উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রোদ কিংবা বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় চলন্ত বাস রাস্তায় সামান্য দাঁড় করিয়ে তড়িঘড়ি করে যাত্রী ওঠানো হয়, ফলে যাত্রীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।
রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যাতায়াতের জন্য মহাসড়কে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে সাটুরিয়া থেকে ঢাকা রুটে এসবি লিংক বা ঢাকা নাগরপুর লিংক নামের একটি পরিবহন চলাচল করছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেসবিহীন এসব বাস অদক্ষ চালক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাসের ভেতরের সিট ও জানালা ভাঙা এবং জরাজীর্ণ। একটি নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় যাত্রীরা উন্নত মানের পরিবহন সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন। সাটুরিয়া থেকে কালামপুর পর্যন্ত পনেরো কিলোমিটার এবং সাটুরিয়া থেকে গোলড়া পর্যন্ত বারো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রীদের ঢাকা আরিচা মহাসড়কে পৌঁছাতে হয়।
হ্যালোবাইক বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়তি ভাড়া গুনে এই পথ অতিক্রম করে তারপর ঢাকার বাসে উঠতে হয়। এতে যাত্রীদের যেমন অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়, তেমনি আর্থিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। রাতের বেলা যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়ে, তখন দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়।
এমনকি যাতায়াতের পথে যাত্রীরা প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। যাতায়াত খরচ বেশি হওয়ার কারণে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়ছেন। সাটুরিয়া উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলম হোসেন জানান, সাভার যাওয়ার জন্য তাকে প্রথমে সিএনজিতে করে কালামপুর যেতে হয়। এতে জনপ্রতি পঞ্চাশ টাকা ভাড়া লাগে এবং সেখান থেকে সাভার যেতে আরও ত্রিশ টাকা খরচ হয়।
সাটুরিয়ায় নিয়মিত বাস সার্ভিস ও বাসস্ট্যান্ড থাকলে মাত্র পঞ্চাশ টাকায় সাভার যাওয়া সম্ভব হতো, যেখানে বর্তমানে প্রায় একশ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। দরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান। সন্তানকে সাভারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘক্ষণ বাসের অপেক্ষায় ছিলেন।
বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে সিএনজিতে কালামপুর যান এবং সেখানেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসক চলে যান। একটি উন্নত বাসস্ট্যান্ড থাকলে এই ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো না বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। সাটুরিয়া থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাগরপুর, মির্জাপুর ও ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন।
তাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই মানহীন বাসগুলো। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাসে উঠতে গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ, নারী, শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাটুরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, সাটুরিয়ায় একটি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা এই মুহূর্তে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি মানিকগঞ্জ তিন আসনের সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে জানানো হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে মন্ত্রীর নির্দেশনায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ এম/ ১১ মার্চ ২০২৬









