মধ্যপ্রাচ্য

ইরান অভিযানে টমাহক মিসাইলের তীব্র সংকটে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী

তেহরান, ১০ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে বিপুল ব্যবহারের কারণে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইলের তীব্র সংকটে পড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জ্যাক বাকবি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই উচ্চ মাত্রার বিমান অভিযানে ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কমান্ড সেন্টারগুলো ধ্বংস করতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারে টমাহকের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে যা এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ।

মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গত কয়েক দশকে পেন্টাগনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দূরপাল্লার অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। প্রায় এক হাজার মাইল পাল্লার এই নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রটি ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো পাইলট বা দামি যুদ্ধবিমানকে ঝুঁকিতে না ফেলে গভীর অভ্যন্তরে থাকা শত্রুঘাঁটিতে আঘাত হানা। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের রাডার ফাঁকি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে এই ক্রুজ মিসাইলই ছিল মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রধান ভরসা। বিপুল ব্যবহারের বিপরীতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় শিল্প পর্যায়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় চার হাজার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ছিল যা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

পেন্টাগন বছরে গড়ে মাত্র ৯০টি করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে আসছিল। এই মন্থর উৎপাদন হার চলমান যুদ্ধের বিপুল চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সরবরাহ চেইনের কারণে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সম্পন্ন হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরটিএক্স বছরে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নিলেও এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।

প্রতিটি টমাহক ব্ল্যাক ফাইভ ভেরিয়েন্টের দাম প্রায় ১৩ লক্ষ মার্কিন ডলার যা পেন্টাগনের বাজেটে বড় চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন নৌবাহিনী আশির দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় নয় হাজার টমাহক ক্রয় করলেও এর বড় অংশ মহড়া এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। ওহাইও ক্লাসের মতো বিশাল সাবমেরিনগুলো একেকবারে ১৫৪টি টমাহক বহন করতে পারে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকলে শক্তিশালী নৌযানগুলো সমুদ্রে অনেকটা অকেজো হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষক বাকবি সতর্ক করেছেন যে সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকট চলতি দশকের শেষভাগ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে। এটি ভবিষ্যতে অন্য কোনো পরাশক্তির সাথে দ্বন্দ্বে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে অস্ত্রের মজুদ বৃদ্ধি করা। আধুনিক যুদ্ধ শিল্প সক্ষমতা এবং রসদ সরবরাহের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। উৎপাদন চক্র ত্বরান্বিত করা না গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে পরবর্তীতে আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে হতে পারে।

এস এম/ ১০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language