মধ্যপ্রাচ্য

তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর শঙ্কায় বিশ্ব বাজার, সতর্ক করলেন কাতারের মন্ত্রী

দোহা, ৭ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সতর্ক করে জানিয়েছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে। ইতোমধ্যেই গত দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো শিগগিরই উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর মূল কারণ হিসেবে উৎপাদিত জ্বালানি মজুতের স্থান দ্রুত ফুরিয়ে আসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক লাফে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল কাবি ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে সক্ষম। যুদ্ধ যদি আরও কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকে তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

তাঁর মতে এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে পড়বে এবং অনেক দেশে জ্বালানির মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এদিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং একই সঙ্গে সরবরাহ চুক্তিতে ফোর্স মেজিউর ধারা কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকদের মতে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রফতানি করতে না পারলে তাদের উৎপাদিত তেল মজুত করতে হবে।

কিন্তু মজুতের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। এমনকি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও স্বাভাবিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব কিছু বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করলেও দীর্ঘমেয়াদী সংকটে তা খুব একটা কার্যকর হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয় নয় বরং খাদ্যসহ আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে যেখানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার পথে ছিল সেখানে নতুন করে এই পরিস্থিতি আবার চাপ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এস এম/ ৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language