বিদায়ের আগে নিজেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করলেন ড. ইউনূস

ঢাকা, ৩ মার্চ – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর ফলে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের পর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও সুবিধাদি ভোগ করবেন। দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিলের নানা অভিযোগও সামনে এসেছে।
তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব এবং বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মো. সাইফুল্লা পান্নার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে সরকার তাকে দায়িত্ব ছাড়ার তারিখ থেকে এক বছরের জন্য এই মর্যাদা প্রদান করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিজের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ করিয়েছেন।
এমনকি ক্ষমতায় থাকাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স গ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা এসআরও নং ২৮৫ সংশোধন করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পূর্বের বিধানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রধানের জন্য মেয়াদ শেষের পর তিন মাস ভিআইপি মর্যাদার বিধান ছিল। সমালোচকরা বলছেন, ড. ইউনূস কেবল নিজের জন্য এই সময়সীমা এক বছর বৃদ্ধি করেছেন যা অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী কোনো একক ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এই অধ্যাদেশটি সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং নৈতিকতা বিবর্জিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এস এম/ ৩ মার্চ ২০২৬









