রাজশাহী

জয়পুরহাটে আলুর বাম্পার ফলন সত্ত্বেও দামের ধসে কৃষকের মাথায় হাত

উত্তরাঞ্চল, ২ মার্চ – উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাটে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে সোনালি ফসলের সমারোহ থাকলেও বাজারে দামের ভয়াবহ পতনে চরম বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের হাজারো কৃষক।

হাড়ভাঙা খাটুনি আর বিপুল বিনিয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশা ও ক্ষোভে ভেঙে পড়েছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার আলুর ফলন সন্তোষজনক হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য অনেক কম হওয়ায় চাষিদের বিঘাপ্রতি বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে বর্তমানে এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে বীজ সার কীটনাশক সেচ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এর বিপরীতে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি আলু ৮ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা দিয়ে বিঘাপ্রতি মোট আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বেশি হচ্ছে না। ফলে প্রতি বিঘায় কৃষকদের ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান দিতে হচ্ছে।

কালাই উপজেলার হাজিপাড়া মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় নারী শ্রমিকরা আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করলেও কৃষকদের মাঝে শুধুই হতাশা বিরাজ করছে। কৃষক আব্দুল মজিদ জানান গত বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ২৭ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছিলেন এবং সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করলেও আবারও তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আরেক চাষি ফিরোজ মিয়ার আশঙ্কা এবার সাড়ে চার বিঘা জমির আলু আবাদ করে তাকে অন্তত এক লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। হিমাগারে আলু রাখার ক্ষেত্রেও কৃষকদের আগ্রহ কমে গেছে কারণ সংরক্ষণ খরচ ও পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে ভবিষ্যতে দাম বাড়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কালাইয়ের আর বি স্পেশালিস্ট কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক সেলিম হোসেন জানান গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবার কৃষকরা আলু রাখতে নিরুৎসাহিত বোধ করছেন।

সবজি রপ্তানিকারক আব্দুল বাসেদ জানান সরকার আলু রপ্তানিতে প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করায় রপ্তানিকারকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম ও চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি শামস মতিন মনে করেন আলুভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

এম ম/ ২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language