নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোরী হত্যা: বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

নরসিংদী, ২৭ ফেব্রুয়ারি – নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—এবাদুল্লাহ (৪০), আহম্মদ আলী মেম্বার (৬৩), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, এজাহারভুক্ত চার আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামের ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা আশরাফ হোসেনের বাড়ি বরিশালে হলেও জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবার নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় বসবাস করতেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রমতে, প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন বখাটে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত বুধবার কিশোরীকে নিয়ে তার বাবা খালার বাড়ি যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক তাকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরদিন সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এদিকে এই নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিহতের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে ব্যাপারে তিনি সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এনএন/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬








