বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টাকে জোর করে বের করে দিলেন কর্মকর্তারা

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জোর করে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে গভর্নরের সামনেই এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল কর্মকর্তা আহসান উল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেন। একপর্যায়ে তার ঘাড় ধরে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়া নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন, পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, অতিরিক্ত পরিচালক তানভীরসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিজেদের বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসা বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকার দাবি ছিল চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
তিনজনের বদলি ও কারণ দর্শানোর নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কাউন্সিলের ব্যানারে একদল কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সেখানে গভর্নরের পদত্যাগও দাবি করা হয়।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ব্যাংকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় তাকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে।
দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান আহসান এইচ মনসুর। তার কিছুক্ষণ পরই গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে জোর করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের করে দেন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের আন্দোলনরত সদস্যরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহকে গত বছরের জানুয়ারিতে এক বছরের জন্য গভর্নরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে গভর্নরকে সহায়তা করছিলেন আহসান উল্লাহ। তার নেতৃত্বেই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়।
তাকে বের করে দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর, বিকাল ৪টার দিকে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এনএন/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









