রাজধানীতে ফের কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি – রাজধানীতে নতুন করে কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটেছে। গত কয়েক দিনে শিশু হত্যা, ছিনতাই এবং ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধে নতুন করে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং নিয়মিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
ডিএমপির তথ্যমতে, গত চার বছরে রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা রয়েছে। এ সময়ে অন্তত পাঁচ হাজার কিশোর গ্যাং সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৩৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে ১২৭টি। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক অবহেলা এবং রাজনৈতিক বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোররা অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর আদাবরে একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় চাঁদা না পেয়ে হামলা চালায় স্থানীয় ‘কালা রাসেল’ বাহিনীর সদস্যরা। এতে কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে আটক করে। এছাড়া গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে মাহিম মিয়া নামের এক স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে কিশোর গ্যাং সদস্যরা।
সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ৫৫০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
এস এম/ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









