‘সারা দুনিয়ার টাকা দিলেও ছেলের অভাব পূরণ হবে না’: দীপুর বাবা

ময়মনসিংহ, ১১ ফেব্রুয়ারি – ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার শিকার পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা অর্থের চেয়ে বিচারকেই বড় করে দেখছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস আক্ষেপ করে বলেন, “৫০ লাখ টাকা কেন, সারা দুনিয়ার টাকা এনে দিলেও আমার ছেলের অভাব পূরণ হবে না। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।”
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীপুর পরিবারকে বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ, বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ করে ২০ লাখ এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার এফডিআর দেওয়া হবে। এই সহায়তা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দীপুর বাবা এখন দিশেহারা। তিনি বলেন, “ছেলের কোনো দোষ থাকলে দেশে আইন ছিল, বিচার হতো। কিন্তু আমরা গরিব বলে ছেলের জীবন রক্ষা করতে পারিনি।” হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দীপুর মা ও স্ত্রী মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাদের বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে বলে জানান রবি দাস।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এ ঘটনাকে ‘নৃশংস অপরাধ’ উল্লেখ করে বলেছেন, রাষ্ট্র অবশ্যই সুবিচার নিশ্চিত করবে। সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপুকে হত্যা করা হয়েছে, তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু দাস ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনএন// ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









