জাতীয়

কীভাবে ভোট দেবেন, যে তথ্য জানা জরুরি এই নির্বাচনে

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি – আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একই দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোটাররা সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এখন ভোটারদের দায়িত্ব হলো তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করা। ভোট দিতে যাওয়ার আগে এবং পরে কিছু বিষয় জানা জরুরি। ভোট দিতে কী কী তথ্য প্রয়োজন, কীভাবে ভোট দিতে হবে, কীভাবে ব্যালট ভাঁজ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে—এসব জানা দরকার।

ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে যা জানতে হবে

ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। প্রথমে আপনার সঠিক ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জানা জরুরি। এতে সময় বাঁচবে এবং বিভ্রান্তি এড়ানো যাবে।

এই তথ্য জানতে নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায়। এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটকেন্দ্র, ভোটার নম্বর ও ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়া যাবে। হটলাইনে কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। কল করতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন।

এসএমএসের মাধ্যমে ও তথ্য জানা যাবে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে ‘পিসি এনআইডি’ (PC NID) লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো হবে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস থেকেও তথ্য পাওয়া যাবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটার তালিকা থেকেও তা জানা সম্ভব।

ভোট দিতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা ভালো, তবে বাধ্যতামূলক নয়। আপনার নাম ও ছবি ভোটার তালিকায় থাকলে এবং পোলিং অফিসার পরিচয় নিশ্চিত করলে সহজে ভোট দিতে পারবেন। কোনো দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্র প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ।

ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। সব ঠিক থাকলে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেওয়া হবে। এরপর প্রিজাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার দুটি ব্যালট পেপার দেবেন—একটি সংসদ নির্বাচন, অন্যটি গণভোটের। ব্যালট পেপারের পেছনে অফিসিয়াল সিল ও প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না দেখে নিন।

ব্যালট পেপার নিয়ে গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিন। ভোট গোপন রাখার জন্য ব্যালট ভাঁজ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট সিল দিন। গণভোটে হ্যাঁ/না আলাদা ব্যালটে সিল দিন।

সিল মারার পর ব্যালট ভাঁজ করুন যাতে কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করা নিরাপদ। ভাঁজ করা ব্যালট উন্মুক্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলুন এবং দেরি না করে কেন্দ্র ত্যাগ করুন।

এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে না, তাই ভোট হবে কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে। ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কেবল তথ্য আদান-প্রদানের জন্য, ভোট দেওয়ার জন্য নয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫১টি রাজনৈতিক দল, মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। বিএনপি ২৯১ জন প্রার্থী নিয়ে অংশ নিচ্ছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে, স্বতন্ত্রদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এনএন/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language