আইন-আদালত

নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল চ্যালেঞ্জের রিট শুনতে অপারগতা জানাল হাইকোর্ট

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি – জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের জন্য ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অপারগতা জানান।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। পরে রিট আবেদনটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল-জলিলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ আলী আকন্দ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে আয়োজনের জন্য ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারব্যবস্থা সংবিধানে উল্লেখ নেই। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকার ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন সংবিধানসম্মত নয়। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১১ ধারায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হলেও গণভোটের কোনো বিধান সংবিধান বা আরপিওতে নেই। এছাড়া সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না—সে হিসেবে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিটে ১১ ডিসেম্বর ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব একটি রিট আবেদন করেছিলেন। পরে বৃহত্তর স্বার্থে রিটটি উত্থাপন না করার কথা জানালে ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই রিটটি খারিজ করেন।

এনএন/ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language