জাতীয়

মুসার মাথা এফোঁড়-ওফোঁড় করে গুলি লাগে দাদির পেটে, অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় শিশুটি

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর – গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে শিশু মুসা গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার দাদি মারা যান। বাসার গেটের ভেতরে থাকা অবস্থায় মুসার মাথায় গুলি লাগে, যা তার মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে দাদির পেটে আঘাত করে। মুসার দাদি ঘটনাস্থলেই মারা গেলেও মুসা অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে মুসার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান এই মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুসা সেদিন আইসক্রিম খাওয়ার বায়না ধরেছিল। তাই তার মায়ের (মুসার দাদি) সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে দোকানে যায় মুসা। আইসক্রিম নিয়ে বাসার গেট পার হওয়ার সময় তাদের ওপর এই আক্রমণ আসে। গুলির আঘাতে মুসার মাথার খুলির একপাশ উড়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে কৃত্রিম খুলি বসানো হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুটির শরীরের ডান পাশ প্যারালাইজড হয়ে গেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তার ছোট্ট ছেলে মুসা সবকিছু বুঝতে পারলেও এখন আর কথা বলতে বা স্বাভাবিকভাবে খেতে পারে না— সে এখন একপ্রকার বোবা শিশুর মতো জীবন কাটাচ্ছে। মুসার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়া, সে ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু এক মুহূর্তের ঘটনায় সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়।

এদিন সাক্ষ্য ও জেরা শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় নিজ বাসা থেকে বাবা ও দাদির সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় মুসা। ঘাতকের বুলেট মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে দাদির পেটে লাগে। দাদি শহীদ হন, কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় মুসা।

তিনি লিখেছেন, আমাদের জুলাই অজস্র বীরত্বগাঁথা ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। এ ত্যাগ ও কোরবানি বৃথা যেতে দেবে না এ জাতি, ইনশাআল্লাহ।

সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৫


Back to top button
🌐 Read in Your Language