ত্যাগী নির্যাতিত আ’লীগ নেতাদের কোনো মূল্য নেই: ওবায়দুল কাদেরের ভাই
![]()
নোয়াখালী, ৬ জানুয়ারি- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, হাওয়া ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আতাউর রহমান ভুঁইয়া মানিক (তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান), ১/১১-এর কুশীলব জেনারেল মঈন উ আহমদের ভাই জাবেদ (মিনহাজ আহমেদ জাবেদ) এখন আওয়ামী লীগের নেতা। তারা দুইজন এখন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত। অথচ পূর্বের কমিটির সহ-সভাপতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিনকে কমিটিতে না রেখে উপদেষ্টা করা হয়েছে। এ হচ্ছে আমাদের এখনকার আওয়ামী লীগ। ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের কোনো মূল্য নেই।
আবদুল কাদের মির্জা ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্যের সময় এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সাহেবসহ সংশ্লিষ্টদের আমি জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত সাহেব ১২ জানুয়ারি থেকে বসুরহাটে থাকবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।
আবদুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রটা কী, আমি এখান থেকে শুরু করতে চাই। ভোট ডাকাতি করা চলবে না। আসুন, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা সহযোগিতা করি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। চারবার আমাকে ও আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাখ্যা দেব না, কথা বললে আমাদের নেতাও (ওবায়দুল কাদের) মনে কষ্ট নেবেন।
তিনি বলেন, নোয়াখালী ও ঢাকার কোনো কোনো নেতা আমার বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে ক্ষেপিয়েছে। আমার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের পর এখানকার পরবর্তী নেতা শাহাব উদ্দিন সাহেব (কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন)। ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সবাই খারাপ না, সবাইকে আমি শালা বলিনি। অধিকাংশ সাংবাদিক টাকা খেয়ে আমার বক্তব্য বিকৃত করে সংবাদ পরিবেশন করেছে। সাংবাদিকরা আমার কথায় মনে কষ্ট নিলে আমার কিছুই করার নেই।
আবদুল কাদের বলেন, আমি গত কয়েক দিন নির্বাচনী প্রচারণায় যা বলেছি সত্য কথা বলেছি, কোনো মিথ্যা কথা বলিনি। যদি মিথ্যা প্রমাণ হয়, আমি কোম্পানীগঞ্জে থাকব না। ভাত ও ভোটের অধিকারের কথা বলেছি। ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। অথচ আমার বক্তব্য বিকৃত করে শেখ হাসিনা ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বলে মিথ্যা সংবাদ লিখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। আমাদের নোয়াখালী জেলার আণ্ডু-গাণ্ডুদের ভোট ও জনপ্রিয়তা বাড়েনি- আমি এ কথাগুলো বলেছি, বলব।
আরও পড়ুন : ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হলো দলীয় কোন্দল
তিনি বলেন, আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের, বিএনপির মওদুদ আহমেদ ও জামায়াতের নাছের সাহেব (আবু নাছের মুহাম্মদ আবদুজ্জাহের) অসুস্থ। তারা তিনজনই জাতীয় নেতা, আল্লাহর কাছে তাদের নেক হায়াত চাই।
আবদুল কাদের বলেন, ফেনীর জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে গুলি করে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত খুনিদের বিচার হয়নি। নোয়াখালীর কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা একরামুল করিম চৌধুরী এমপিসহ অন্যরা শত শত কোটি টাকা লুটপাট করছে। এখন দলের হেড কোয়ার্টার থেকে আমাকে আলটিমেটাম ও হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি নাকি চট্টগ্রাম বিভাগীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। কোন কোন নেতা-এমপির কাছ থেকে মাসোহারা নেন, আমার কাছে খবর আছে।
সূত্র: যুগান্তর
আর/০৮:১৪/৬ জানুয়ারি









