সাজ-সজ্জা

ঘর সাজাতে মিষ্টি টুংটাং

যান্ত্রিক এ জীবনে সুক্ষ্ম সুরের দ্যোতনা জানায় মনের তৃষ্ণার কথা। এ শহরে কিচির মিচির পাখির ডাক খুঁজে পাওয়া কঠিন। একঘেয়ে জীবনে তাই ভিন্নতার আলাপও পাওয়া যায় না। শ্রবণেন্দ্রিয় হাঁপিয়ে ওঠে কলকার খানার ঘ্যানর ঘ্যানর শুনতে শুনতে। থাকার জন্য ছোট্ট একটু ঠাঁই যাদের মেলা কঠিন সেখানে বাড়ির সামনে গাছ লাগিয়ে পাখির কিচিরমিচির শোনার সে সুপ্ত বাসনা অনেক বেশি বিলাসিতা। তাইতো খুঁজতে হয় বিকল্প ব্যবস্থা। অন্তত কিছুটা আমেজ আনতে পারলেও খুশির শেষ থাকে না। শহুরে জীবনে তাইতো পাখির কিচিরমিচিরের বদলে উইন্ড চাইমের মিষ্টি টুংটাং দিয়ে কিছুটা হলেও কানকে প্রশান্তি দিতে হয়।

বাজারে সাধারণত একই ধরনের উইন্ড চাইম দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত। কাজেই নিজ হাতে বানালে উইন্ড চাইমে দেয়া যেতে পারে ভিন্ন রূপ। সাধারণত সবগুলো উইন্ড চাইম তৈরি করার মূল পদ্ধতি একই রকম।

সমুদ্রে পাড়ে বেড়াতে গেলে শামুক কুড়াতে কার না ভালো লাগে! অনেকেই সমুদ্রে বেড়াতে গেলে শামুকের খোসা বাজার থেকে কিনে ঘরের শোপিস হিসেবে ব্যবহার করেন। সে শামুকের খোসা এমনি এমনি ঘরে সাজিয়ে না রেখে উইন্ড চাইম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাসায় অব্যবহৃত কাচের বোতল থাকে। সে বোতলের চারপাশে ছোট পুঁতি, ছোট সিলভারের চামচ ইত্যাদি বেধে ঝুলিয়ে দিলে অন্য রকম সৌন্দর্য পাবে।

অনেকে পুরনো চামচ বেঁধে উইন্ড চাইম তৈরি করে থাকে। চামচগুলোর মাঝে রঙিন পুঁতি বা ছোট্ট নুড়ি পাথর লাগিয়ে দিলে তার সৌন্দর্য আরও বাড়ে। শব্দও তৈরি হয় শ্রুতিমধুর।

ফুলের টব দিয়ে বড় থেকে ছোট্ট ক্রমানুসারে উইন্ড চাইম তৈরি করা যেতে পারে। টবের নিচে ছিদ্র করে ট্রান্সপারেন্ট সুতার সাহায্যে এসব ঝুলিয়ে দেয়া যেতে পারে। টবগুলো যেহেতু মাটির তৈরি; কাজেই ইচ্ছেমতো নকশাও করা যেতে পারে।

শুধু চামচ কেন, চাইলে টি-পট, কাপ ইত্যাদির সংমিশ্রণে উইন্ড চাইম তৈরি করা যেতে পারে। আর এসবের সঙ্গে আরও আকর্ষণীয় করতে নানা রঙের পাথর, পুঁতি ইত্যাদির ব্যবহার তো আছেই!

এসব ঝামেলার মধ্যে যেতে না চাইলে, বাজার থেকে কিনে নিতে পারেন পছ্ন্দ অনুযায়ী উইন্ড চাইম। প্লাস্টিক, কাঠ বা মাটির তৈরি নানা রকম উইন্ড চাইম পাওয়া যায় এখানে। দামও হাতের নাগালে। এবার ঘরের দক্ষিণদুয়ারে বা জানালার ধারে ঝুলিয়ে দিন। ঝিরিঝিরি বাতাসের আলতো ছোঁয়ায় দুলতে থাকবে আর টুংটাং আওয়াজ তুলবে। কেউ কেউ ঘরে প্রবেশপথেও ঝুলিয়ে দেন, যাতে ঘরে ঢুকতে বের হতে মাথায় লেগে বেজে ওঠে। কেউ আবার ইচ্ছা করেও ওটা একটু নাড়িয়ে যান। উইন্ড চাইমের আওয়াজে নিজেকেও একটু চাঙা করে নেন এই সুযোগে।

এম ইউ


Back to top button
🌐 Read in Your Language