ময়মনসিংহ

এলাকাবাসীর অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে ১৮০ ফুট সেতু

ময়মনসিংহ, ২৪ মে– যুগ যুগ ধরে দুই পাড়ের মানুষের পারাপারে ভসরা ছিল নৌকা। শুস্ক মৌসুমে না লাগলেও বর্ষায় নৌকাই ছিল একমাত্র উপায়। এতে কৃষকদের উৎপাদিত জিনিসপত্র, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ও রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে পোহাতে হতো চরম দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ভোগান্তি নিয়ে নদী পারাপার হওয়া গ্রামবাসী একটি সেতু নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার বলেছেন। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় নিজেরাই নিয়েছেন সেতু বানানোর উদ্যোগ।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ ও ছয় ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মিত হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার সীমান্তে। গাছের খুঁটি, লোহা ও স্টিলের পাত দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এ সেতু।

ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলাকে দু’ভাগ করেছে সুরিয়া নদী। নদীর এক পাশে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মাওহা ইউনিয়নের নয়ানগর বাউসালীপাড়া। অন্য পাশে নেত্রকোনা সদরের দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দুগিয়া গ্রাম। দুই জেলার সীমান্তবর্তী স্থানের মানুষের নদী পারাপারে একমাত্র ভসরা ছিল একটি নৌকা।

সুরিয়া নদী দুটি এলাকাকে পৃথক করলেও মাওহা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দক্ষিণ বিশিউড়া এবং নেত্রকোনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। মাওহা ইউনিয়নের নয়ানগর বাউসালীপাড়া এলাকা থেকে গৌরীপুর উপজেলা সদরের চেয়ে দূরত্ব নেত্রকোনো সদরের কম। ওই অবস্থায় গ্রামের মানুষের সুবিধার জন্য যোগাযোগ নেত্রকোনার সঙ্গেই। এ ছাড়া গ্রামের কাঁচা রাস্তার কারণে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জরুরি অবস্থার রোগীদের নিয়েও পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। নদী পার হয়ে পাকা রাস্তা ধরে সহজেই নেত্রকোনায় চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন এলাকাটির মানুষ।

মাস তিনেক আগে গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করতে পরিকল্পনা শুরু করেন স্থানীয় তিন যুবক। তারা হলেন স্কুলশিক্ষক মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, শিক্ষার্থী আজহারুল করিম ও সোহেল রানা। নদীতে একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা গ্রামবাসীকে জানালে সবাই এতে সম্মতি দেন। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা তুলে দিতে শুরু করেন উদ্যোক্তা যুবকদের হাতে। যাদের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই তারা নিজেদের শ্রম দিচ্ছেন সেতু নির্মাণে। এভাবে গ্রামবাসীর টাকায় এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে সেতুটির।

সরেজমিন দেখা গেছে, এরই মধ্যে গাছের খুঁটি পুঁতে তাতে লোহার অ্যাঙ্গেল স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর দুই পাশে অন্তত ১৫০ ফুট পার্শ্বসড়কও নির্মাণ করা হয়েছে। এখন মূল সেতুর পাটাতন নির্মাণ বাকি। এরই মধ্যে অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে সেতুটি নির্মাণে। প্রয়োজন আরও অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকার। টাকার জোগান হলে দ্রুতই স্টিলের পাটাতন দিয়ে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সেতু নির্মিত হওয়ায় খুশি গ্রামের মানুষ। গ্রামের এমদাদুল হক ও বাহাজ উদ্দিন বলেন, সেতু না থাকায় এতদিন কষ্টে পারাপার হলেও এখন সেই দুর্ভোগ কাটতে যাচ্ছে। সরকারিভাবে সেতুর জন্য অনেকবার দাবি জানানো হলেও কাজ না হওয়ায় নিজেরাই সেতু করে নিচ্ছেন চলাচলের জন্য।

সেতুটি নির্মাণের উদ্যোক্তা আজহারুল করিম বলেন, সেতুটি নিয়ে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারবেন।

স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য এইচএম খায়রুল বাসার বলেন, সরকারি অর্থায়নে সেতু হওয়ার প্রয়োজন থাকলেও গ্রামবাসী তা করে ফেলছে। সেতুটির কাজ সম্পন্ন করতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট রয়েছে।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ বলেন, এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিতব্য সেতুটির কাছাকাছি এলাকায় সড়ক বিভাগে নতুন সড়কে একটি সেতু রয়েছে। এলজিইডি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর থেকে এত দীর্ঘ সেতুর সুযোগ না থাকায় করা যায়নি। তবে গ্রামবাসীর নেওয়া উদ্যোগে তাদের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।

সূত্র : সমকাল
এম এন / ২৪ মে


Back to top button
🌐 Read in Your Language