ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া আইজিসির ৫ম বৈঠক: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বড় প্রটোকল স্বাক্ষর!

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর – বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আইসিটি, অর্থ ও ব্যাংকিং এবং সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র রাশিয়া। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে গঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতাবিষয়ক আন্তঃসরকারি কমিশন’ (আইজিসি)-এর পঞ্চম যৌথ সভায় এ বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুই দেশের নীতি নির্ধারকদের উপস্থিতিতে আইজিসির এই গুরুত্বপূর্ণ ৫ম সভাটি সম্পন্ন হয়।
উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিদল:
সভায় দুই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা:
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল: কো-চেয়ার হিসেবে নেতৃত্ব দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।
রাশিয়া প্রতিনিধিদল: কো-চেয়ার হিসেবে রাশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ফেডারেল এজেন্সি ফর ফিশারিজের প্রধান ইলিয়া শেস্তাকভ।
অংশগ্রহণকারী: সভায় উভয় দেশের বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় প্রটোকল স্বাক্ষর ও অগ্রাধিকার ক্ষেত্র:
২০১৭ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় এই আইজিসি গঠিত হয়। এর আগে চারটি সফল বৈঠকের পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম বৈঠকে চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পের ওপর বিশদ পর্যালোচনার পর যৌথ প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং রাশিয়ার ইলিয়া শেস্তাকভ নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রটোকলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
যেসব খাতে জোর দিচ্ছে দুই দেশ:
১. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত: চলমান প্রকল্পগুলোর মসৃণ বাস্তবায়ন এবং নতুন শক্তি খাতে কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি।
২. কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ: উন্নত কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণাগার ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা।
৩. বিজ্ঞান, আইসিটি ও প্রযুক্তি: ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে কাজ করা।
৪. অর্থ ও ব্যাংকিং: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজীকরণে ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বাধা দূরীকরণ।
৫. শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন: শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সুযোগ প্রসারিত করা।
বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তি ও প্রটোকল স্বাক্ষরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এনএন/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬







