জাতীয়

৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার, আইএমএফের হিসাবেও স্বস্তি

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর – দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়ে ফের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড— উভয় পদ্ধতিতেই রিজার্ভের পরিমাণ সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এই হালনাগাদ ও ইতিবাচক চিত্র গণমাধ্যমের সামনে নিশ্চিত করেছেন।

এক নজরে রিজার্ভের নতুন পরিসংখ্যান:

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী: দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে (৩,৬৪১ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার)।

আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ (BPM-6) মানদণ্ড অনুযায়ী: ব্যবহারযোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ বেড়ে পৌঁছেছে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে (৩,১৬০ কোটি চার লাখ মার্কিন ডলার)।

অক্টোবরের গ্রাফ: কীভাবে বাড়ল রিজার্ভ?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি অক্টোবর মাস জুড়েই রিজার্ভের সূচকটি ধাপে ধাপে ইতিবাচক পথে হেঁটেছে। গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান বলছে—

  • ১৭ অক্টোবর: নিজস্ব হিসাবে ছিল ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৫৭ বিলিয়ন ডলার।
  • ১৫ অক্টোবর: নিজস্ব হিসাবে ছিল ৩৬.৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৫০ বিলিয়ন ডলার।
  • ১৪ অক্টোবর: নিজস্ব হিসাবে ছিল ৩৬.১৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
  • ১১ অক্টোবর: নিজস্ব হিসাবে ছিল ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৪০ বিলিয়ন ডলার।
  • ৮ অক্টোবর: নিজস্ব হিসাবে ছিল ৩৬.১৫ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৪ বিলিয়ন ডলার।
  • ৭ অক্টোবর: নিজস্ব হিসাবে ছিল ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩১ বিলিয়ন ডলার।

কেন এই ধারাবাহিক উত্থান?

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই সঞ্চয় বাড়ার পেছনে মূলত প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের চাকা সচল থাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বৈদেশিক বাণিজ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নানামুখী পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। রিজার্ভের এই স্থিতিশীলতা দেশের আমদানির চাপ সামলাতে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনএন/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language