মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালিতে তোলপাড়: মাইন বিস্ফোরণে ২ তেল ট্যাংকারে আগুন

তেহরান, ২১ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত ও স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চরম উত্তেজনার পারদ এবার বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রণালিটির দক্ষিণ অংশে সামুদ্রিক মাইন বিস্ফোরণে দুটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের মুখে পড়ে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে। একই রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক MQ-9 ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত করার চাঞ্চল্যকর দাবিও করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে আইআরজিসির বরাত দিয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি।

নিষিদ্ধ পথে চলছিল ট্যাংকার, মাইনে ছড়ালো ভয়াবহ আগুন

আইআরজিসির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের ঘোষিত আন্তর্জাতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও ‘নিষিদ্ধ জলসীমায়’ অননুমোদিতভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল তেল ট্যাংকার দুটি।

বিবৃতিতে বলা হয়:

মাইন বিস্ফোরণ: নিষিদ্ধ সীমানায় পাহাড়ে ছড়ানো নৌ-মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটার পরপরই দুটি ট্যাংকারেই দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়।

আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি: এই ঘটনার পর আবারও কড়া বার্তা দিয়ে আইআরজিসির নৌবাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ওই জলপথে অনুপ্রবেশকারীদের পরিণতি একমাত্র “জাহাজে আগুন ধরে যাওয়া” ছাড়া আর কিছুই হবে না।

মার্কিন ‘MQ-9’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি

একই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধুনিক এমকিউ-৯ (MQ-9 Reaper) ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দেয় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানি আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর সময় ড্রোনটিকে তাদের র্যাডারে শনাক্ত করা হয়। কালবিলম্ব না করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ড্রোনটিকে ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আধিপত্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবাণী দিয়েছে—”যুক্তরাষ্ট্রের এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে এর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।”

মধ্যপ্রাচ্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও অভ্যন্তরীণ বার্তা

বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, সমগ্র হরমুজ প্রণালিতে তাদের সার্বক্ষণিক ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে নিজেদের হাতে রাখার পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিরক্ষার অঙ্গীকারে তারা অবিচল রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশে ও বিদেশে চলা জনসমর্থন ও প্রতিরোধের প্রশংসা করে আইআরজিসি আরও জানায়, টানা ২৩০ রাতেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে জনগণের অবিচল উপস্থিতি এক বিশাল রাজনৈতিক ও জাতীয় বিজয় এনে দিয়েছে, যা বিশ্বে ইরানের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

এনএন/ ২১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language