ইয়েমেনের সব হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান ঘোষণা সরকারের

সানা, ০৫ অক্টোবর-ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সব এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইয়েমেন সরকার এই ঘোষণা দিল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চালানো ৫০টি বিমান হামলার জবাব হিসেবে এসব হামলা করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত মাসে হুতিদের হামলার পর ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ওই হামলার মাধ্যমে হুতিরা দেশটির উপকূলীয় এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।
রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল আলিমি বলেন, “আজ আমি দেশের বাকি থাকা সব এলাকা ফিরে পেতে এবং পুরো দেশে সরকারের শাসন ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।”
ইয়েমেনের রাজধানী সানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের দখলে রয়েছে। সরকারি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দিতে হামলা চালিয়ে আসছে।
হুতিদের ওপর হামলা ইয়েমেনজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গোষ্ঠীটির উত্তরের প্রধান ঘাঁটি সা’দা অঞ্চলও রয়েছে। তবে কয়েকটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিরা ক্রমাগত অগ্রগতি করে যাচ্ছে।
ইয়েমেনের সম্মুখ সমরে এখনো গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজ মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। শহরটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে।
রোববার হুতিরা ইয়েমেনি সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সঙ্গে তাইজের যোগাযোগ থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ বন্ধ করে দিয়েছে।
ইয়েমেনের তিনটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহীরা ওই এলাকা ও সরবরাহ পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে কার্যত তাইজ শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এস এম/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬







