জাতীয়

দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ বার কাঁপল ভূখণ্ড: আতঙ্কে রাত কাটাল চট্টগ্রাম-ঢাকাবাসী

ঢাকা, ০৪ অক্টোবর – শনিবার দিবাগত রাতে এক গভীর আতঙ্কের অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো দেশবাসী। মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পরপর তিনটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মধ্যরাতের এই কম্পনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা কেঁপে ওঠে। হঠাৎ ভবন ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠায় আতঙ্কে শত শত মানুষ বাসাবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন।

দেড় ঘণ্টার ৩টি ভূমিকম্প: কোথায় ও কীভাবে হলো?

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের (EMSC) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের এই পরপর তিনটি কম্পনের সময় ও মাত্রার বিবরণ:

  • প্রথম ধাক্কা (রাত ১২:১২ মিনিট): মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ৪.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
  • দ্বিতীয় ধাক্কা (রাত ১২:১৩ মিনিট): প্রথমটির ঠিক এক মিনিট পর ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুংলেই এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে ৫.০ মাত্রার দ্বিতীয় কম্পনটি অনুভূত হয়।
  • তৃতীয় ধাক্কা (রাত ১:২৭ মিনিট): প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা সংলগ্ন এলাকায় ৩.৮ মাত্রার তৃতীয় ভূকম্পনটি রেকর্ড করা হয়। এর প্রভাবে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় মৃদু ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।

হঠাৎ কেন এই ঘনঘন ভূকম্পন? (বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ)

বাংলাদেশ ও এর সংলগ্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো—বিশেষ করে ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল এবং মায়ানমার প্লেট বাউন্ডারি সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ভূ-কম্পনজনিত দিক থেকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

  • টেকটোনিক প্লেটের চাপ ও শক্তি নির্গমন: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং মিয়ানমার পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চলটি একটি সক্রিয় ‘ফল্ট জোন’। এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ ফল্ট লাইনে জমে থাকা শক্তি নির্গত হওয়ার কারণে নিয়মিত বিরতিতে ফোরশক, মূল ভূকম্পন এবং আফটারশক অনুভূত হয়।
  • উৎসের গভীরতা: বেশিরভাগ কম্পনের উৎস ভূগর্ভের তুলনামূলক অগভীর অঞ্চলে (১০ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে) হওয়ায় রিখটার স্কেলে মাত্রা মধ্যম (৩.৮ – ৫.০) হলেও ভূ-পৃষ্ঠে ঝাঁকুনির তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক

পরপর তিনবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় বিভিন্ন শহরের বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক তৈরি হয়। মধ্যরাতে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা যায় অনেক পরিবারকে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত কোনো স্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্প পরবর্তী জরুরি সতর্ক বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরপর ছোট আকারের ভূকম্পন বড় কোনো ভূকম্পনীয় উত্তেজনার লক্ষণ হতে পারে। তাই সবাইকে কিছু মৌলিক প্রস্তুতি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:

ঘরে আতঙ্কিত না হওয়া: ঝাঁকুনি শুরু হলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে অবস্থান নিন (‘Drop, Cover, and Hold On’)।
লিফট ব্যবহার বর্জন: ভূমিকম্পের সময় বা পরপরই বহুতল ভবনের লিফট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
খোলা জায়গায় আশ্রয়: ভবনের বাইরে থাকলে বৈদ্যুতিক খুঁটি, বড় গাছ ও জরাজীর্ণ দালান থেকে দূরে খোলা স্থানে অবস্থান নিন।

এনএন/ ০৪ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language