জাতিসংঘে তারেক রহমানের কূটনৈতিক ব্যস্ততা: ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে বিশ্বমঞ্চের এ সফরে একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনা ইতিমধ্যে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোর আলোচনা তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৃথক সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফের সঙ্গে। এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বাণিজ্য, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো আরও প্রসারিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট’-এ অংশ নেন। প্রাতরাশের পরপরই তিনি সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে যোগদান করেন।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, সফরসূচিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান:
জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ: আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান তাঁর প্রথম ভাষণ দেবেন। অতীত ঐতিহ্য ও জাতীয় মর্যাদার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি এবারও বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ: আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক বিশেষ সাইড ইভেন্টে যোগ দিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
জলবায়ু বিচার ও বৈশ্বিক বৈষম্য: একই দিনে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে ‘বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা’ বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখার পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ সেশনে অংশ নেবেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও অস্তিত্ব রক্ষা: ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সভায় তিনি উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।
আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক এই বৈঠক—সব মিলিয়ে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ আদায়ে এক নতুন কূটনৈতিক পথচিত্র তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







