জাতীয়

জামায়াতের লংমার্চ ও জোট রাজনীতি নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া

রাশেদ খাঁন

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক লংমার্চ এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছিল।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহরকে পুলিশি প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই সহযোগিতার বিপরীতে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী, মতিঝিল এলাকায় লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল এবং মিছিল থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক এই বিশ্লেষণে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত বর্তমানে এনসিপিকে সামনে রেখে এক ধরনের কৌশলগত রাজনীতি করছে। যেখানে জামায়াত অর্থায়ন ও জনবল সরবরাহ করছে কিন্তু সরাসরি ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। তবে জামায়াত শিবিরের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী এনসিপিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারছেন না।

দলের ভেতরে এ নিয়ে এক ধরনের আক্ষেপ ও অসন্তোষ পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাশেদ খাঁন মনে করেন, জামায়াত জোটে থাকা অধিকাংশ দলই মূলত আসন ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করে জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন হলে তারা আবারও অবস্থান বদলাতে পারে।

এনসিপির ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই দলটি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে এবং তাদের পেছনে বিভিন্ন বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে। জামায়াতের এই জোট গঠনকে তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জামায়াত যাদের ওপর আজ অতিমাত্রায় ভরসা করছে, তারাই ভবিষ্যতে দলটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জামায়াত ইসলামকে ব্যবহার করে যে রাজনীতি করছে, তা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যই নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তিনি তার পোস্টে সতর্কবার্তা দেন।

এস এম/ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button