প্রাণনাশের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নেতানিয়াহুর বড় ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে নিল ইসরায়েল

তেল আবিব, ৩০ আগস্ট – প্রাণনাশের হুমকির মুখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে করে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়াইরের ওপর হামলার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকায় তাকে এবং তার নিরাপত্তা দলকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এই হুমকির উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, গত বছরের ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে ইয়াইর নেতানিয়াহু ইরানের একটি সম্ভাব্য গুপ্তহত্যা পরিকল্পনার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন।
মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানার পর ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৪ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
নিউজম্যাক্সের তথ্যমতে, নিরাপত্তা ঝুঁকির খবর পাওয়ার পরপরই ইয়াইরকে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি নিজের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ফ্লোরিডা ত্যাগ করেন এবং সরাসরি ইসরায়েলে ফিরে যান। নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর বেশ কয়েক বছর ধরে ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন।
তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং রাষ্ট্রীয় খরচে পাওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর লাখ লাখ ইসরায়েলি নাগরিককে যখন সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছিল, তখন ইয়াইরের দেশের বাইরে অবস্থান নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়।
ডানপন্থী কর্মী এবং পডকাস্টার হিসেবে পরিচিত ইয়াইর নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় এবং প্রায়ই তিনি তার বাবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।
এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬









