আন্তর্জাতিক

বিশ্বে গত বছর নিহত ৩৫০ জন দাতব্যকর্মী: জাতিসংঘ

নিউ ইয়র্ক, ১৭ আগস্ট – বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সহিংসতার মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করতে গিয়ে গত বছর অন্তত ৩৫০ জন দাতব্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এই কর্মীদের একটি বিশাল অংশ গাজা ও সুদানে কর্মরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন।

সোমবার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাণহানির সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা কম। সেই বছর বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছিলেন। বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক সংস্থা ওসিএইচএ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের জরিপের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টানা তৃতীয় বছরের মতো দাতব্যকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হয়ে উঠেছে গাজা। সেখানে ১৮৬ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন আফ্রিকার দেশ সুদানে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার এক বিবৃতিতে বলেন, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে ১ হাজারের বেশি ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, কেবল নিন্দা জানিয়েই সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা এই নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এদিকে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছেন এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন।

বিবৃতিতে সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে শহরগুলোতে ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণ বৃদ্ধির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে ড্রোন হামলায় ৮০ শতাংশ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেন, সশস্ত্র ড্রোন এখন সাধারণ মানুষের জীবন ধ্বংসের এক নতুন ও ভয়াবহ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনএন/ ১৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language