দক্ষিণ এশিয়ায় ডলারের বিপরীতে স্থিতিশীল অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা

ঢাকা, ৫ আগস্ট – গত এক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একই সময়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রুপির সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন হয়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমেছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কান রুপির ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ফিলিপাইনের পেসোর ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে।
তুলনামূলক বিচারে কম্বোডিয়া কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছে যেখানে দেশটিতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে এ অঞ্চলের শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে চীনের ইউয়ানের মান ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং পাকিস্তানি রুপির মান ০ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আইএমএফ শর্ত অনুযায়ী বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করায় টাকার মান স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। গত এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয় মেটাতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত ৪ আগস্ট আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ দশমিক ৮১ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে।
এনএন/ ৫ আগস্ট ২০২৬









