ডলারের বাজারে অস্থিরতা: খোলা বাজারে দাম ১২৬ টাকা ছাড়াল

ঢাকা, ৩ আগস্ট – আমদানি বিল পরিশোধে মার্কিন ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তঃব্যাংক বাজার, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং খোলা বাজার সব জায়গাতেই ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একই দিনে স্পট মার্কেটে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৩ টাকা ৮৮ পয়সায় যা এক মাস আগেও ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা।
বর্তমানে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি নিষ্পত্তি করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার প্রতি ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ব্যবস্থার কারণেই এই সংকট প্রকট হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি এবং সার আমদানির ব্যয় মেটাতে বাড়তি ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে আমদানি ব্যয় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪০২ কোটি ডলারে। অন্যদিকে একই সময়ে রপ্তানি আয় ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রা আসার চেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজারে এই চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতিও ডলার সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
গত অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এলেও গত জুন ও জুলাই মাসে তা যথাক্রমে ২৮২ কোটি ও ২৮৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে, আন্তঃব্যাংক বা রেমিট্যান্স কোনো মাধ্যমেই যেন ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দামে ডলার কেনা না হয়।
ব্যাংকিং খাতের এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে। রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে রোববার প্রতি ডলার ১২৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেও খোলা বাজারে ডলারের দাম ছিল ১২৫ টাকার কাছাকাছি।
এনএন/ ৩ আগস্ট ২০২৬









