দক্ষিণ কোরিয়ায় শতবর্ষের রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি

সিউল, ২ আগস্ট – দক্ষিণ কোরিয়ায় গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে রোববার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে গত ১০০ বছরের আবহাওয়ার সব রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইয়াংসান শহরে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা পাঁচ দিন ধরে শহরটিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে।
একই সঙ্গে দেশটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরেও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০টিরও বেশি অঞ্চলে জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ বছরই প্রথমবারের মতো এই বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে এই জরুরি সতর্কতা প্রদান করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বছরে গড়ে ১৯ দিন তাপপ্রবাহ অনুভূত হয়েছে। অথচ ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল বছরে মাত্র ৮ দিন। অর্থাৎ গত কয়েক দশকের ব্যবধানে দেশটিতে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বিশ্বজুড়ে তাপদাহের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই সাম্প্রতিক রেকর্ড তাপমাত্রা সেই বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনেরই একটি অন্যতম নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬









