মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্বন্দ্বে কঠিন সমীকরণে সৌদি আরব

রিয়াদ, ৩০ জুলাই – মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম সংঘাতের রেশ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেও সফল হতে পারছে না সৌদি আরব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে রিয়াদ সংঘাত এড়িয়ে চলার নীতি গ্রহণ করলেও পরিস্থিতির চাপে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।

সম্প্রতি ইরাকে ইরান সমর্থিত আধা সামরিক বাহিনীর ওপর মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই গোষ্ঠীটিই সম্প্রতি রাজতন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে রিয়াদের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তারা কি সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দমাতে পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রাখবে নাকি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার পুরোনো কৌশলে ফিরে যাবে তা নিয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দুটি স্পষ্ট শিবির লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে রয়েছে ইরান ও তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ ইয়েমেনের হুথি ও ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের মতো আঞ্চলিক মিত্ররা। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের সাথে কাজ করছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং জর্ডান।

ইসরায়েল আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেও এই মুহূর্তে তারা সম্মুখ সমরে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। তবে ইরান সম্প্রতি জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে।

সংঘাতের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিকটি হলো ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুথিদের নতুন করে যুদ্ধে সক্রিয় হওয়া। ইরান ও মার্কিন জোটের মধ্যে কোনো স্থায়ী সমঝোতা না হওয়ায় পুরো অঞ্চলটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সৌদি আরবের জন্য এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া মানে তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রবর্তিত ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের সফলতার জন্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এখন সময়ের দাবি।

তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার যে লক্ষ্য রিয়াদ নির্ধারণ করেছে তার জন্য বিশাল বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক থেকে ক্রমাগত ড্রোনের হুমকি থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

অতীতে ২০১৯ সালে আবকাইক ও খুরাইসে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে অর্ধেকে নেমে এসেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের অবকাঠামো ও অর্থনীতি রক্ষায় সৌদি আরব মার্কিন সামরিক জোটে সক্রিয় থাকবে নাকি আপস করে নিরাপদ থাকার পথ খুঁজবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এস এম/ ৩০ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language