এশিয়া

কৃত্রিম সূর্য তৈরিতে চীনের বড় সাফল্য: সফল হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বক

বেইজিং, ২৯ জুলাই – পারমাণবিক শক্তি গবেষণায় এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে চীন। দেশটির বহুল আলোচিত কৃত্রিম সূর্য প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন ম্যাগনেটের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। চায়না একাডেমি অফ সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অফ প্লাজমা ফিজিক্সে এই শক্তিশালী ডি আকৃতির চুম্বকটির পরীক্ষা চালানো হয়।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় অসীম এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশটি। সূর্যের শক্তি উৎপাদনের মূল ভিত্তি হলো পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়া। পৃথিবীতে এই প্রক্রিয়া সচল রাখতে রিয়্যাক্টরের ভেতরে থাকা প্লাজমাকে প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে হয়।

এত উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমা যেন কোনোভাবেই রিয়্যাক্টরের দেয়াল স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্য অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রয়োজন হয়। এই শক্তিশালী অদৃশ্য দেয়াল তৈরির কাজই করবে নতুন এই সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকটি। প্রকৌশলগত দিক থেকে এই চুম্বকটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। এটি প্রায় ২১ মিটার লম্বা এবং ১২ মিটার চওড়া।

এর ওজন ৫ শতাধিক টনের বেশি। এটি রিয়্যাক্টরে প্রায় ৬.৫ টেসলা শক্তির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের চেয়ে হাজারো গুণ বেশি শক্তিশালী। উল্লেখ্য যে, এই চুম্বকটি ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হলো চরম তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা। রিয়্যাক্টরের মূল কেন্দ্রে যেখানে ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে, সেখানে এই সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকগুলোকে সচল রাখতে মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শীতল রাখতে হয়।

অত্যন্ত আধুনিক ক্রায়োজেনিক কুলিং সিস্টেমের সাহায্যে এই কঠিন কাজটি সম্ভব হচ্ছে। এই অর্জনের মাধ্যমে চীন তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে এবং দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে এই চুম্বক তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের জন্য চীনকে আর বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

চীনের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা শেষ করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা।

এস এম/ ২৯ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language